আরে আপনারা সব কেমন আছেন? আমি জানি, আপনারা অনেকেই কৌতূহলী উত্তর কোরিয়া আর চীনের সম্পর্ক নিয়ে, তাই না? যখনই এই দুই দেশের কথা ভাবি, আমার মনে হয় যেন একটা রহস্যময় গল্পের পাতা খুলছে। বছরের পর বছর ধরে তাদের বন্ধুত্ব, বাণিজ্য আর কখনও কখনও যে ছোটখাটো মনোমালিন্য, সে এক অদ্ভুত রসায়ন!
যেমন ধরুন, ২০১৭ সাল পর্যন্ত চীন উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু এরপর থেকে তাদের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে, এমনকি চীন এখন অনেক নতুন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করছে। ভাবা যায়!
আমি নিজে দেখেছি, আমাদের দেশের বাজারেও যখন উত্তর কোরিয়া থেকে আসা কিছু পণ্য দেখি, তখন মনে প্রশ্ন জাগে, এই কঠিন অর্থনৈতিক অবরোধের মধ্যেও তারা কীভাবে টিকে আছে?
এর অনেকটাই চীনের সাথে তাদের ১,৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বাণিজ্য আর আর্থিক সহায়তার ফল। মজার ব্যাপার হলো, ২০১০ সালে উত্তর কোরিয়ার সাথে চীনের বাণিজ্যের পরিমাণ অন্যান্য সব দেশের মোট বাণিজ্যের চেয়েও বেশি ছিল!
যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে, তবুও তাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড এখনও চীনই। ২০২৩ সালে উত্তর কোরিয়ার মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশই হয়েছে চীনের সাথে।তবে, এই সম্পর্ক সবসময় মসৃণ নয়। মাঝে মাঝে তাদের মধ্যে ছোটখাটো ফাটলও দেখা যায়। যেমন, সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার সামরিক গুপ্তচর উপগ্রহ উৎক্ষেপণ চীনের কূটনৈতিক উদ্যোগকে ব্যাহত করায় বেইজিং কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছিল। এমনকি, কিছু বিশ্লেষক তো বলছেন, “ঠোঁট আর দাঁতের নৈকট্য”-এর মতো এই সম্পর্কে চাপ পড়লেই বড় ফাটল ধরতে পারে। কিন্তু এত কিছুর পরেও, তাদের সম্পর্ক যে একেবারে ছিন্ন হবে না, সেটা আমরা সবাই বুঝি।আসলে, এই দুই দেশের সম্পর্কটা অনেকটা আমাদের নিজেদের সম্পর্কের মতোই, যেখানে ভালোবাসা, নির্ভরতা, আর মাঝেমধ্যে একটু অভিমান – সবকিছুই মিশে আছে। উত্তর কোরিয়া কেন চীনের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ, আর এই সম্পর্ক তাদের অর্থনীতিকে কীভাবে প্রভাবিত করছে, তা নিয়ে আপনার মনেও যদি প্রশ্ন থাকে, তাহলে একদম ঠিক জায়গায় এসেছেন। নিচে আমরা এই fascinating সম্পর্কটিকে আরও গভীরে গিয়ে বিশ্লেষণ করব। নিশ্চিত থাকুন, এই বিষয়ে আরও অনেক চমকপ্রদ তথ্য নিয়ে এসেছি আপনাদের জন্য। চলুন, তাহলে আর দেরি না করে পুরো বিষয়টি একদম পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া যাক!
আরে আপনারা সব কেমন আছেন? আমি জানি, আপনারা অনেকেই কৌতূহলী উত্তর কোরিয়া আর চীনের সম্পর্ক নিয়ে, তাই না? যখনই এই দুই দেশের কথা ভাবি, আমার মনে হয় যেন একটা রহস্যময় গল্পের পাতা খুলছে। বছরের পর বছর ধরে তাদের বন্ধুত্ব, বাণিজ্য আর কখনও কখনও যে ছোটখাটো মনোমালিন্য, সে এক অদ্ভুত রসায়ন!
যেমন ধরুন, ২০১৭ সাল পর্যন্ত চীন উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেছিল। কিন্তু এরপর থেকে তাদের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে, এমনকি চীন এখন অনেক নতুন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করছে। ভাবা যায়!
আমি নিজে দেখেছি, আমাদের দেশের বাজারেও যখন উত্তর কোরিয়া থেকে আসা কিছু পণ্য দেখি, তখন মনে প্রশ্ন জাগে, এই কঠিন অর্থনৈতিক অবরোধের মধ্যেও তারা কীভাবে টিকে আছে?
এর অনেকটাই চীনের সাথে তাদের ১,৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বাণিজ্য আর আর্থিক সহায়তার ফল। মজার ব্যাপার হলো, ২০১০ সালে উত্তর কোরিয়ার সাথে চীনের বাণিজ্যের পরিমাণ অন্যান্য সব দেশের মোট বাণিজ্যের চেয়েও বেশি ছিল!
যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে, তবুও তাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড এখনও চীনই। ২০২৩ সালে উত্তর কোরিয়ার মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশই হয়েছে চীনের সাথে।তবে, এই সম্পর্ক সবসময় মসৃণ নয়। মাঝে মাঝে তাদের মধ্যে ছোটখাটো ফাটলও দেখা যায়। যেমন, সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার সামরিক গুপ্তচর উপগ্রহ উৎক্ষেপণ চীনের কূটনৈতিক উদ্যোগকে ব্যাহত করায় বেইজিং কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছিল। এমনকি, কিছু বিশ্লেষক তো বলছেন, “ঠোঁট আর দাঁতের নৈকট্য”-এর মতো এই সম্পর্কে চাপ পড়লেই বড় ফাটল ধরতে পারে। কিন্তু এত কিছুর পরেও, তাদের সম্পর্ক যে একেবারে ছিন্ন হবে না, সেটা আমরা সবাই বুঝি।আসলে, এই দুই দেশের সম্পর্কটা অনেকটা আমাদের নিজেদের সম্পর্কের মতোই, যেখানে ভালোবাসা, নির্ভরতা, আর মাঝেমধ্যে একটু অভিমান – সবকিছুই মিশে আছে। উত্তর কোরিয়া কেন চীনের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ, আর এই সম্পর্ক তাদের অর্থনীতিকে কীভাবে প্রভাবিত করছে, তা নিয়ে আপনার মনেও যদি প্রশ্ন থাকে, তাহলে একদম ঠিক জায়গায় এসেছেন। নিচে আমরা এই fascinating সম্পর্কটিকে আরও গভীরে গিয়ে বিশ্লেষণ করব। নিশ্চিত থাকুন, এই বিষয়ে আরও অনেক চমকপ্রদ তথ্য নিয়ে এসেছি আপনাদের জন্য। চলুন, তাহলে আর দেরি না করে পুরো বিষয়টি একদম পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া যাক!
ঐতিহাসিক বাঁধন: সমাজতান্ত্রিক বন্ধুত্ব থেকে আজকের বাস্তবতা

উত্তর কোরিয়া আর চীনের সম্পর্কটা আজকের নয়, এর শেকড় অনেক গভীরে প্রোথিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যখন উত্তর কোরিয়ার জন্ম হলো, তখন থেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন আর চীন – এই দুই সমাজতান্ত্রিক শক্তিই তাদের পাশে ছিল। আমার মনে হয়, যেকোনো দেশের উত্থানে প্রাথমিক সমর্থন কতটা জরুরি, তা এই দুই দেশের ইতিহাস দেখলেই বোঝা যায়। ১৯৪৯ সালের ৬ অক্টোবর গণপ্রজাতন্ত্রী চীন এবং গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়া একে অপরের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এরপর কোরীয় যুদ্ধে চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণ তো তাদের বন্ধুত্বের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ১৯৫০ সালের অক্টোবরে চীন উত্তর কোরিয়ার সমর্থনে কোরিয়ান যুদ্ধে অংশ নেয়, যখন পিপলস আর্মির বিপত্তির মুখে ও জাতিসংঘ কমান্ডের ৩৮নং সমান্তরালরেখা অতিক্রমণ পরবর্তী সময়ে সংকট দেখা দেয়। চীনা গণ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর আত্মত্যাগ উত্তর কোরিয়ার অস্তিত্ব রক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, যা তাদের সম্পর্কের ভিত্তি আরও মজবুত করে তুলেছে। কিন্তু ঠান্ডা যুদ্ধের পর, বিশেষ করে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর, এই সম্পর্কে কিছুটা পরিবর্তন আসে। নব্বইয়ের দশকে চীন উত্তর কোরিয়ার সাথে বাণিজ্য কমিয়ে দেয়, কারণ তখন চীন ভেবেছিল উত্তর কোরিয়াও হয়তো সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো বেশিদিন টিকবে না। যদিও শেষ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া টিকে যায়, আর একুশ শতকের শুরুতে চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য হওয়ার পর আবার তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটই আজকের সম্পর্কের জটিল রসায়নের জন্ম দিয়েছে।
শেকড়ের টান: কোরীয় যুদ্ধের স্মৃতি
কোরীয় যুদ্ধের সময় চীনের হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবক উত্তর কোরিয়ার পক্ষে লড়াই করেছেন, যা তাদের মধ্যে এক রক্তমাংসময় সম্পর্ক তৈরি করেছে। এই যুদ্ধ শুধু ভৌগোলিক প্রতিবেশীই নয়, বরং আদর্শগত মিত্র হিসেবেও তাদের এক করেছে। আমার মনে হয়, কোনো কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর স্মৃতি সম্পর্ককে এতটাই মজবুত করে তোলে যে, পরবর্তীকালে ছোটখাটো সমস্যাতেও তা সহজে ভাঙে না। চীনের জন্য উত্তর কোরিয়া একটি কৌশলগত বাফার রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করে, যা তাদের দক্ষিণ কোরিয়াতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে একটি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। চীনের নীতিনির্ধারকরা সবসময় কোরীয় উপদ্বীপে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চান, কারণ উত্তর কোরিয়াতে অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে চীনে শরণার্থীর ঢল নামতে পারে এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্রের প্রবাহ নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
বদলে যাওয়া বিশ্বব্যবস্থায় নতুন সমীকরণ
আগে যেখানে সমাজতান্ত্রিক আদর্শ ছিল তাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি, এখন সেখানে কৌশলগত স্বার্থ আর অর্থনৈতিক নির্ভরতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চীনের জন্য উত্তর কোরিয়াকে নিজেদের সীমান্তে স্থিতিশীল রাখা খুব জরুরি, এমনকি তারা পারমাণবিক অস্ত্রধর হলেও। যদিও চীনের জনগণের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব বাড়ছে, বিশেষ করে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে, তবুও সরকার এখনও বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখতে চায়। আমি দেখেছি, কীভাবে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মিত্রতার সংজ্ঞা পাল্টে যায়, আর এই দুই দেশের ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে।
অর্থনীতির অক্সিজেন: নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অবিচল বাণিজ্য
উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতির মেরুদণ্ড হলো চীন, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আর অবরোধের মুখেও উত্তর কোরিয়া টিকে আছে মূলত চীনের অর্থনৈতিক সহায়তার ওপর ভর করে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখন কোনো দেশ কঠিন অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যায়, তখন তার শক্তিশালী কোনো প্রতিবেশীর সমর্থন কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। চীনের বৈদেশিক সাহায্যের প্রায় অর্ধেকই হলো উত্তর কোরিয়ার প্রতি তার আর্থিক সহায়তা। উত্তর কোরিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ বাণিজ্য চীনের সঙ্গে হয়। এমনকি ২০২৩ সালেও উত্তর কোরিয়ার মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশই চীনের সাথে হয়েছে। এটা শুধু বাণিজ্যের পরিমাণই নয়, জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য থেকে শুরু করে শিল্প উৎপাদনের কাঁচামাল পর্যন্ত সবকিছুই চীন থেকে আসে।
বাণিজ্যিক lifeline: পিয়ংইয়ংয়ের ফুসফুস
উত্তর কোরিয়ার জন্য চীনের সীমান্ত যেন এক জীবনরেখা। ডান্ডং বন্দরের মাধ্যমে বেশিরভাগ বাণিজ্য সম্পন্ন হয়। যদিও জাতিসংঘ উত্তর কোরিয়ার উপর অনেক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, চীন সম্পূর্ণ বা ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করে না। ফলে, পরোক্ষভাবে হলেও চীনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া অনেক পণ্য আমদানি করতে পারে। যেমন, ২০২৩ সালের এপ্রিলে উত্তর কোরিয়া চীন থেকে সবচেয়ে বেশি পরচুলা আমদানি করেছে, যার আর্থিক মূল্য ছিল ১ কোটি ১৬ লাখ ডলার। এছাড়াও হাইড্রোজেন ফসফেট সার, চাল, পেট্রোলিয়াম গ্যাস, ইস্পাত, যন্ত্রাংশ, গাড়ি ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীও চীন থেকে আমদানি করে তারা। এই লেনদেন তাদের অর্থনীতিকে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ করে দেয়। আমার মনে হয়, এই ছোট ছোট বাণিজ্যগুলোই উত্তর কোরিয়ার মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
নিষেধাজ্ঞার দ্বন্দ্বে চীনের ভূমিকা
জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাগুলোর পরেও চীন বেশ কিছু নতুন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করছে। ২০১৭ সালে যেখানে চীন উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেছিল, সেখানে এখন তাদের অবস্থান অনেকটাই নরম হয়েছে। আমি দেখেছি, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিজের স্বার্থ কতটা প্রভাব ফেলে দেশের সিদ্ধান্তে। চীন উত্তর কোরিয়ার পতন চায় না, কারণ তাতে চীনের সীমান্তে অস্থিতিশীলতা দেখা যেতে পারে। তাই, নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা সত্ত্বেও, চীন এমনভাবে বাণিজ্য ও সহায়তা চালিয়ে যায় যাতে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে না পড়ে।
কূটনৈতিক নাটকের মঞ্চ: টানাপোড়েন আর কৌশলগত খেলা
উত্তর কোরিয়া আর চীনের সম্পর্ক সবসময় এক সরলরেখায় চলে না। এর মধ্যে অনেক সময় টানাপোড়েন দেখা যায়, যা দেখে মনে হয় যেন একটা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নাটক চলছে। আমি নিজে অনেকবার দেখেছি, এই দুই মিত্র দেশের মধ্যেও কীভাবে ছোটখাটো ঘটনা বড় কূটনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। যেমন, সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার সামরিক গুপ্তচর উপগ্রহ উৎক্ষেপণের প্রচেষ্টা চীনের কূটনৈতিক উদ্যোগকে কিছুটা ব্যাহত করেছিল। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং যখন জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতাদের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে বসছিলেন, ঠিক সেই সময়েই উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ঘটনাটি ঘটে, যা বেইজিংকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। এই ধরনের ঘটনা দেখলেই বোঝা যায়, দুই দেশের সম্পর্ক কতটা জটিল।
শি জিনপিং আর কিম জং উনের ‘ঠোঁট ও দাঁতের নৈকট্য’
বিশ্লেষকরা প্রায়ই চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ককে ‘ঠোঁট ও দাঁতের নৈকট্য’ বলে অভিহিত করেন। এর মানে হলো, তারা একে অপরের এতটাই কাছাকাছি যে, একজনের ক্ষতি হলে অন্যজনেরও ক্ষতি হয়। আমার মনে হয়, এই উপমাটা তাদের সম্পর্কের গভীরতা বোঝানোর জন্য খুব যথার্থ। যদিও মাঝে মাঝে এই দাঁতের চাপ ঠোঁটে লেগে যায়, তবুও তারা জানে যে একে অপরকে ছাড়া তাদের চলে না। চীনের নেতা শি জিনপিং পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে কিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি, যা সম্পর্কের একটি সূক্ষ্ম টানাপোড়েন নির্দেশ করে। তবে ২০২৩ সালের ২৩ মার্চ চীন ও উত্তর কোরিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। আবার, কিম জং উন আগামী ৩ সেপ্টেম্বর চীনের সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন, যা হবে তার ২০১৯ সালের পর প্রথম চীন সফর এবং আন্তর্জাতিক কোনো বহুপাক্ষিক অনুষ্ঠানে প্রথম অংশগ্রহণ। এসব ঘটনাই প্রমাণ করে, সম্পর্কের জটিলতা সত্ত্বেও, তারা একে অপরের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
নিষেধাজ্ঞার আড়ালে কূটনীতি
জাতিসংঘের আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞাগুলো উত্তর কোরিয়াকে একঘরে করে রাখলেও, চীনের মধ্যস্থতা কিছুটা হলেও তাদের জন্য স্বস্তিদায়ক। আমি দেখেছি, কীভাবে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় চীন উত্তর কোরিয়ার পাশে দাঁড়ায়, বিশেষ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে। চীনের এই সমর্থন উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সাহস যোগায় বলে অনেকে মনে করেন। তবে, চীনও চায় কোরীয় উপদ্বীপে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ হোক, যদিও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে তারা বেশি গুরুত্ব দেয়।
সীমাহীন সীমান্ত, বহুমুখী প্রভাব: জীবন ও জীবিকার গল্প
উত্তর কোরিয়া আর চীনের মধ্যে প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এই সীমান্ত শুধু একটি ভৌগোলিক রেখা নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকাকেও প্রভাবিত করে। আমার মনে হয়, কোনো দেশের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা সব সময়ই একটা বিশেষ চ্যালেঞ্জের মধ্যে দিয়ে যায়, আর এই ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়। এই সীমান্ত দিয়ে শুধু পণ্যই চলাচল করে না, এর সাথে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, সংস্কৃতি আর মানবসম্পর্কের এক বিশাল জাল।
সীমান্ত বাণিজ্য: এক বিকল্প অর্থনীতির ধারা
যদিও কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, উত্তর কোরিয়া এবং চীনের সীমান্ত বাণিজ্য একটি বিকল্প অর্থনীতি হিসেবে কাজ করে। চীনের দানদং শহরের মতো সীমান্ত শহরগুলো উত্তর কোরিয়ার কয়লাসহ বিভিন্ন খনিজ দ্রব্যের উপর নির্ভরশীল ছিল। তবে, যখন নিষেধাজ্ঞা কঠোর হয়, তখন এই শহরগুলোর ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমি নিজে দেখেছি, কীভাবে কিছু নিয়মের পরিবর্তন হলে সাধারণ মানুষের জীবনে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে। উদাহরণস্বরূপ, যখন চীনের উপর উত্তর কোরিয়ার কয়লা বাণিজ্য বন্ধ করার চাপ আসে, তখন দানদংসহ অনেক সীমান্ত শহর অচল হয়ে পড়েছিল, লাখ লাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছিল।
মানুষের গতিবিধি ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান
সীমান্তের উভয় পাশে জাতিগত কোরিয়ানদের বসবাস রয়েছে, বিশেষ করে চীনের ইয়ানবিয়ান কোরিয়ান স্বায়ত্তশাসিত প্রিফেকচারে। এই অঞ্চলগুলোতে মানুষের যাতায়াত, পারিবারিক সম্পর্ক আর সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান একটি স্বাভাবিক বিষয়। আমি মনে করি, যতই কঠোরতা আরোপ করা হোক না কেন, মানুষের মধ্যেকার সম্পর্কগুলো কোনো সীমানা মানে না। চীনের মোবাইল ফোন পরিষেবা প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরে পাওয়া যায়, যার ফলে সীমান্ত এলাকায় চীনা মোবাইল ফোনের একটি কালো বাজার তৈরি হয়েছে। এই বিষয়গুলোই প্রমাণ করে যে, দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ করা কতটা কঠিন।
বদলে যাওয়া সম্পর্কের গতিপথ: রাশিয়া ফ্যাক্টর এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়া-চীন সম্পর্কের গতিপথে কিছু নতুন বাঁক দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা বাড়ার কারণে। আমি তো মনে করি, আন্তর্জাতিক সম্পর্কে কোনো কিছুই স্থির থাকে না, সবকিছুই সময়ের সাথে সাথে বদলায়। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া আর উত্তর কোরিয়ার সামরিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ছে, যা চীনের জন্য নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এই নতুন সমীকরণটা চীনের জন্য কতটা স্বস্তিদায়ক, তা নিয়ে অনেক বিশ্লেষণ চলছে।
রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠতা: চীনের জন্য নতুন সমীকরণ
কিম জং উন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছেন। ২০২৩ সালে উত্তর কোরিয়ার মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশই চীনের সাথে হলেও, রাশিয়ার সাথে ছিল মাত্র ১.২ শতাংশ। তবে, রাশিয়ার সাথে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা চীনের জন্য কিছুটা অস্বস্তির কারণ হতে পারে, বিশেষ করে যদি রাশিয়া তাদের সীমান্তে উল্লেখযোগ্য পারমাণবিক স্থাপনা নির্মাণ করে। আমার মনে হয়, চীনের মতো একটি বৃহৎ শক্তি কখনোই তার প্রতিবেশী দেশে এমন কোনো সামরিক উপস্থিতি চাইবে না, যা তাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও নির্ভরশীলতা
যদিও রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক বাড়ছে, উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতির মেরুদণ্ড এখনও চীনই। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া থেকে পাওয়া সুবিধা সীমিত এবং ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হলে রাশিয়ার সাথে সহযোগিতার মাত্রা স্থায়ী না হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। তাই, উত্তর কোরিয়ার জন্য চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করা এখনও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, অর্থনৈতিক নির্ভরতা এত সহজে কাটিয়ে ওঠা যায় না, বিশেষ করে যখন অন্য কোনো বিকল্প ততটা শক্তিশালী না হয়। ২০২৩ সালে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে বন্ধ থাকা সীমান্ত খুলে দেওয়ার পর চীনের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ার ফলে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতিতে জোরালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যা ৩.১ শতাংশ হতে পারে। এটি ২০১৬ সালের পর সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।
বাস্তবতার মুখোমুখি: চ্যালেঞ্জ আর সুযোগের দোলাচল
উত্তর কোরিয়া ও চীনের সম্পর্কটা যেন এক দোদুল্যমান দোলনার মতো – কখনো ভারসাম্যে থাকে, কখনো আবার ঝুঁকে পড়ে। আমি তো সব সময়ই বলি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক মানেই হলো নিজের দেশের স্বার্থকে সবার উপরে রাখা, আর এই দুই দেশও তার ব্যতিক্রম নয়। তাদের সম্পর্কের গভীরে একদিকে যেমন রয়েছে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব আর কৌশলগত বাধ্যবাধকতা, তেমনি অন্যদিকে আছে অবিশ্বাস আর স্বার্থের সংঘাত।
অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও বাইরের চাপ
চীনের সাধারণ জনগণের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচী ও তাদের একনায়কতান্ত্রিক শাসন নিয়ে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। এমনকি চীনের কিছু পণ্ডিতও উত্তর কোরিয়ার শাসনব্যবস্থাকে ‘সামন্তবাদী’ বলে মনে করেন এবং দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমি দেখেছি, কীভাবে একটি দেশের বাইরের নীতি তার অভ্যন্তরীণ জনমত দ্বারাও প্রভাবিত হয়। যদিও চীন ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার’ নীতি মেনে চলে, তবুও এই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলে।
| বিষয় | চীনের ভূমিকা | উত্তর কোরিয়ার উপর প্রভাব |
|---|---|---|
| অর্থনৈতিক সহায়তা | প্রধান আর্থিক সহায়তা ও বাণিজ্য অংশীদার | নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অর্থনীতির টিকে থাকা |
| জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা | প্রথম দিকে সমর্থন, পরে কিছু নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা | কিছুটা আন্তর্জাতিক চাপ থেকে মুক্তি |
| রাজনৈতিক ও কৌশলগত সমর্থন | বাফার রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা, স্থিতিশীলতা কামনা | প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক নির্ভরতা |
| সাম্প্রতিক সামরিক কর্মকাণ্ড | উপগ্রহ উৎক্ষেপণে অস্বস্তি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যাহত | ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি |
| রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠতা | কিছুটা অস্বস্তি, সম্পর্কের চাপ | নতুন কৌশলগত বিকল্পের সন্ধান |
ভবিষ্যতের দিকে এক অনিশ্চিত যাত্রা
আমার মনে হয়, উত্তর কোরিয়া-চীন সম্পর্কটা ভবিষ্যতেও একই রকম জটিল থাকবে। একদিকে, উত্তর কোরিয়া চীনের উপর অর্থনৈতিকভাবে এতটাই নির্ভরশীল যে, এই সম্পর্ক ছিন্ন করা তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে, চীনও চায় না তার সীমান্তে একটি অস্থিতিশীল বা পতনোন্মুখ রাষ্ট্র থাকুক। বরং, তারা স্থিতিশীল পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন উত্তর কোরিয়াকে একটি অবিভক্ত কোরিয়ার চেয়েও ‘কম খারাপ’ বন্ধু হিসেবে দেখে, যেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রভাব বেশি থাকতে পারে এবং যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হতে পারে। আমি সব সময়ই বলি, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘স্থায়ী শত্রু বা মিত্র’ বলে কিছু নেই, আছে শুধু ‘স্থায়ী স্বার্থ’। এই দুই দেশের সম্পর্কও সেই স্বার্থের দড়িতেই বাঁধা।
글을মাচি며
আরে, আমার প্রিয় বন্ধুরা! উত্তর কোরিয়া আর চীনের এই জটিল সম্পর্ক নিয়ে আমার এই বিশ্লেষণ আপনাদের কেমন লাগলো? আমার তো মনে হয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রতিটি পদক্ষেপই যে কত সূক্ষ্ম হিসাব-নিকাশের ওপর নির্ভরশীল, সেটা এই দুই দেশের সম্পর্ক দেখলে খুব ভালো বোঝা যায়। আশা করি, আজকের এই আলোচনা আপনাদের অনেক নতুন কিছু জানতে সাহায্য করেছে। সত্যিই, একটা সম্পর্ক কতটা গভীর হতে পারে, যখন সেখানে ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, কৌশলগত বাধ্যবাধকতা আর অর্থনৈতিক নির্ভরতা একসাথে মিশে থাকে!
আপনাদের মতামত জানতে আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করব।
알아두면 쓸모 있는 정보
১. উত্তর কোরিয়া ও চীনের সম্পর্ক বহু পুরনো, যার ভিত্তি স্থাপন হয়েছিল কোরীয় যুদ্ধের সময়। চীন, কোরীয় যুদ্ধে তাদের বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী পাঠিয়ে উত্তর কোরিয়ার অস্তিত্ব রক্ষায় সাহায্য করেছিল, যা তাদের মধ্যে এক রক্তমাংসময় সম্পর্ক তৈরি করেছে। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটই আজকের সম্পর্কের জটিল রসায়নের জন্ম দিয়েছে এবং চীনকে উত্তর কোরিয়ার এক অকৃত্রিম মিত্র হিসেবে দাঁড় করিয়েছে, যা ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২. আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতির ৯০ শতাংশেরও বেশি বাণিজ্য চীনের সঙ্গে হয়। চীনের আর্থিক সহায়তা এবং বাণিজ্যই উত্তর কোরিয়াকে আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা সত্ত্বেও টিকে থাকতে সাহায্য করে। এমনকি ২০২৩ সালে উত্তর কোরিয়ার মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশই চীনের সাথে হয়েছে, যা তাদের অর্থনীতির ওপর চীনের অবিচ্ছেদ্য প্রভাবকে স্পষ্ট করে তোলে। চীন তাদের জন্য এক অপরিহার্য জীবনরেখা হিসেবে কাজ করে।
৩. চীনের জন্য উত্তর কোরিয়া একটি কৌশলগত বাফার রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করে। এর মাধ্যমে চীন দক্ষিণ কোরিয়াতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে একটি নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে পারে। চীনের নীতিনির্ধারকরা সবসময় কোরীয় উপদ্বীপে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চান, কারণ উত্তর কোরিয়াতে অস্থিতিশীলতা দেখা দিলে চীনে শরণার্থীর ঢল নামতে পারে এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্রের প্রবাহ নিয়ে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
৪. যদিও চীন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে কিছু নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেছে, তবে তারা সম্পূর্ণ বা ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করে না। ফলে, পরোক্ষভাবে হলেও চীনের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া অনেক প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করতে পারে। চীনের এই দ্বৈত ভূমিকা উত্তর কোরিয়াকে পুরোপুরি আন্তর্জাতিক চাপ থেকে মুক্ত না করলেও, তাদের টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট সমর্থন যোগায়।
৫. সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা বাড়লেও, উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতির মেরুদণ্ড এখনও চীনই। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া থেকে পাওয়া সুবিধা সীমিত এবং ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হলে রাশিয়ার সাথে সহযোগিতার মাত্রা স্থায়ী না হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। তাই, অর্থনৈতিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে উত্তর কোরিয়ার জন্য চীনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
중요 사항 정리
উত্তর কোরিয়া ও চীনের সম্পর্ক একটি গভীর ঐতিহাসিক ভিত্তি, কৌশলগত বাধ্যবাধকতা এবং অর্থনৈতিক নির্ভরতার উপর দাঁড়িয়ে আছে। কোরীয় যুদ্ধ থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা পর্যন্ত চীন সব সময় উত্তর কোরিয়ার পাশে থেকেছে। চীনের জন্য উত্তর কোরিয়া একটি অপরিহার্য বাফার রাষ্ট্র, যা তাদের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। যদিও তাদের মধ্যে মাঝে মাঝে কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা যায় এবং রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা চীনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে, তবুও উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতির মেরুদণ্ড এখনও চীনই। এই সম্পর্ক ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের এক জটিল সমীকরণ, যেখানে পারস্পরিক নির্ভরতা আর কৌশলগত বোঝাপড়া উভয় দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖
প্র: উত্তর কোরিয়ার টিকে থাকার পেছনে চীনের ভূমিকা আসলে কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
উ: আরে বাহ্, কী দারুণ প্রশ্ন করেছেন! আমার নিজেরও অনেক সময় মনে হয়, এই জটিল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়া কীভাবে টিকে আছে। সত্যি বলতে কী, উত্তর কোরিয়ার টিকে থাকার পেছনে চীনের ভূমিকা অপরিহার্য, বলতে গেলে তাদের লাইফলাইন। আপনারা হয়তো জানেন, উত্তর কোরিয়া দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের অর্থনীতিকে সচল রাখতে চীনের সাথে তাদের ১,৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বাণিজ্য আর আর্থিক সহায়তাই মূল চালিকাশক্তি। আমি নিজে দেখেছি, যখন উত্তর কোরিয়ার কিছু পণ্য আমাদের বাজারে আসে, তখন ভাবি, এইগুলো কীভাবে আসে?
এর উত্তর হলো, বেশিরভাগই চীনের মাধ্যমে।আমার অভিজ্ঞতা বলে, ২০১০ সালের দিকেও উত্তর কোরিয়ার সাথে চীনের বাণিজ্যের পরিমাণ অন্যান্য সব দেশের মোট বাণিজ্যের চেয়েও বেশি ছিল!
যদিও সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে, তবুও তাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড আজও চীন। যেমন, ২০২৩ সালে উত্তর কোরিয়ার মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৭ শতাংশই হয়েছে চীনের সাথে। ভাবা যায়!
এই বিশাল বাণিজ্য শুধুমাত্র খাদ্য, জ্বালানি বা কাঁচামাল সরবরাহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মাধ্যমে তারা প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করে। চীন না থাকলে উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি সম্ভবত আরও অনেক বেশি দুর্বল হয়ে পড়ত। তাই এক কথায় বলতে গেলে, চীনের সমর্থন ছাড়া উত্তর কোরিয়ার আজকের অবস্থানে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব।
প্র: চীন এবং উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক কি সত্যিই ‘ঠোঁট আর দাঁতের নৈকট্য’-এর মতো, নাকি এতে ফাটলও ধরতে পারে?
উ: ওহ্, এই উপমাটা আমার খুব পছন্দ! ‘ঠোঁট আর দাঁতের নৈকট্য’ – হ্যাঁ, এই উপমাটা সত্যিই চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ককে খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করে। মুখে মুখে তারা বন্ধু, একে অপরের কাছাকাছি। কিন্তু আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতা আর বিশ্লেষণ বলে, এই সম্পর্কটা যতটা গভীর আর নির্ভরশীল, ততটাই সংবেদনশীল। যেমন, দাঁতের সামান্য সমস্যা হলে ঠোঁটও কষ্ট পায়, তেমনি এই দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যেও ছোটখাটো ফাটল বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।যেমনটা আমি আগে বলেছি, ২০১৭ সাল পর্যন্ত চীন উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেছিল। সেই সময়টায় সম্পর্কের টানাপোড়েন বেশ স্পষ্ট ছিল। আবার সম্প্রতি যখন উত্তর কোরিয়া সামরিক গুপ্তচর উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে, তখন চীনের কূটনৈতিক উদ্যোগ কিছুটা ব্যাহত হয়েছিল, যার ফলে বেইজিং কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছিল বলে খবর শুনেছি। এইগুলো প্রমাণ করে যে, তাদের স্বার্থ সবসময় এক হয় না। চীন একটি স্থিতিশীল প্রতিবেশী চায়, যেখানে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে বারবার অস্থিরতা তৈরি হোক, তা তারা চায় না। অন্যদিকে, উত্তর কোরিয়া তার নিজস্ব নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়, যা অনেক সময় চীনের আঞ্চলিক কৌশলগত স্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে। তবে, এই ছোটখাটো ফাটলগুলো সত্ত্বেও আমি মনে করি, তাদের সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, উভয়েরই একে অপরের প্রতি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত নির্ভরতা এতটাই গভীর যে, বড় ধরনের বিচ্ছেদ উভয় দেশের জন্যই ক্ষতিকর হবে। অনেকটা আমাদের পরিবারের সম্পর্কের মতো, মান-অভিমান হয়, কিন্তু বন্ধনটা সহজে ছিঁড়ে না।
প্র: উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে চীনের অবস্থান সময়ের সাথে সাথে কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে?
উ: কী চমৎকার একটি প্রশ্ন! আমার মনে হয়, এই প্রশ্নটি অনেকের মনেই আসে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে চীনের অবস্থান আসলে একটি জটিল এবং বিবর্তিত প্রক্রিয়া। এক সময়, যেমনটা আমরা জানি, চীন উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতম মিত্র ছিল এবং তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতি পরোক্ষ সমর্থনও ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে, বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষাগুলোর মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এবং তা চীনের নিজস্ব নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে ওঠায়, চীনের অবস্থানে পরিবর্তন আসতে শুরু করে।আমি নিজে দেখেছি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ এবং উত্তর কোরিয়ার লাগামহীন পারমাণবিক কার্যক্রমের প্রতিক্রিয়ায় চীন ২০১৭ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করেছে। তারা প্রকাশ্যে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রাগার গড়ে তোলার নিন্দা করেছে এবং কোরীয় উপদ্বীপে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের পক্ষে কথা বলেছে। এই সময়টায় তাদের মধ্যে বেশ বড় ধরনের কূটনৈতিক টানাপোড়েনও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে, বিশেষ করে আমেরিকার সাথে চীনের বাণিজ্য যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ার পর, চীনের অবস্থানে আবার সূক্ষ্ম পরিবর্তন এসেছে। তারা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্রের বিরোধী, তবে নতুন করে উত্তর কোরিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরোধিতা করছে। আমার মনে হয়, চীন এখন তাদের নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে – একদিকে তারা একটি স্থিতিশীল উত্তর কোরিয়া চায় যা তাদের সীমান্তের জন্য হুমকি নয়, অন্যদিকে তারা আমেরিকাকে এই অঞ্চলে অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করতে দিতে চায় না। তাই বলা যায়, চীনের অবস্থানটি একটি দোদুল্যমান ভারসাম্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং চীনের নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়।
📚 তথ্যসূত্র
Wikipedia Encyclopedia
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과






